ঢাকা ০৪:০৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ০২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২০ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

কোস্টগার্ডের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ ও আল্টিমেটাম

নিজস্ব সংবাদ :

কোস্টগার্ডের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ ও
আল্টিমেটাম

 

হাতিয়া (নোয়াখালী) প্রতিনিধি :
নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ায় এক কলেজছাত্রকে পরিকল্পিতভাবে আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে ফাঁসিয়ে গ্রেপ্তারের অভিযোগে কোস্টগার্ডের বিরুদ্ধে তীব্র বিক্ষোভে ফেটে পড়েছে স্থানীয় জনতা।

 

বৃহস্পতিবার বিকেলে উপজেলা সদরে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ সমাবেশে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী অংশ নেন।

 

বিক্ষোভের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা কলেজছাত্র মো. রুবেল চরকিং ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা রহিম মাঝির ছেলে। তিনি সুবর্ণচর উপজেলার সৈকত ডিগ্রি কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র। পড়ালেখার পাশাপাশি ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকলেও তার কোনো সাংগঠনিক পদ নেই বলে জানান স্থানীয়রা।

 

সমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করেন, গত মঙ্গলবার রাতে কোস্টগার্ডের একটি দল কৌশলে ফোন করে রুবেলকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে বলির পোল এলাকা থেকে আটক করে। এরপর পরদিন একটি আগ্নেয়াস্ত্র ‘দেখিয়ে’ তাকে থানায় সোপর্দ করে অস্ত্র আইনে মামলা দেওয়া হয়।

 

বক্তাদের ভাষায়, এটি কোনো আইনশৃঙ্খলা অভিযান নয়—বরং পরিকল্পিত ফাঁদ ও সাজানো নাটক।
স্থানীয়রা আরও অভিযোগ করেন, টাকার বিনিময়ে নিরপরাধ ছাত্রকে বলির পাঁঠা বানানো হয়েছে, যা রাষ্ট্রীয় বাহিনীর জন্য চরম লজ্জাজনক ও উদ্বেগজনক। তারা বলেন, “যদি একজন কলেজছাত্রকে এভাবে ফাঁসানো যায়, তাহলে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কোথায়?”

 

বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক ইসমাইল হোসেন ইলিয়াছ, সদস্য সচিব ফাহিম উদ্দিন, পৌরসভা যুবদলের আহ্বায়ক মমিন উল্যাহ রাসেল, সদস্য সচিব কাউছার মোস্তফা, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব সুমন তালুকদার, পৌরসভা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক খোন্দকার সোহেল, উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক রিয়াজ মাহমুদ, সদস্য সচিব আবদুল হালিমসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

 

বক্তারা কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে রুবেলকে মুক্তি না দিলে হাতিয়াজুড়ে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। তারা অবিলম্বে ঘটনার বিচার বিভাগীয় তদন্ত, দায়ী কোস্টগার্ড সদস্যদের শনাক্ত করে শাস্তি এবং মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানান।

 

এদিকে কোস্টগার্ডের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, অস্ত্র বিক্রির সময় রুবেলকে আটক করা হয়েছে। তবে স্থানীয়দের মতে, এই দাবি বিশ্বাসযোগ্য নয় এবং ঘটনার প্রকৃত সত্য আড়াল করতেই এমন বক্তব্য দেওয়া হচ্ছে।

 

ঘটনাকে ঘিরে পুরো হাতিয়া উপজেলায় তীব্র উত্তেজনা ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। যে কোনো সময় পরিস্থিতি আরও বিস্ফোরণমুখী হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সচেতন মহল।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপডেট সময় ০৯:২৯:৪৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬
৪ বার পড়া হয়েছে

কোস্টগার্ডের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ ও আল্টিমেটাম

আপডেট সময় ০৯:২৯:৪৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬

কোস্টগার্ডের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ ও
আল্টিমেটাম

 

হাতিয়া (নোয়াখালী) প্রতিনিধি :
নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ায় এক কলেজছাত্রকে পরিকল্পিতভাবে আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে ফাঁসিয়ে গ্রেপ্তারের অভিযোগে কোস্টগার্ডের বিরুদ্ধে তীব্র বিক্ষোভে ফেটে পড়েছে স্থানীয় জনতা।

 

বৃহস্পতিবার বিকেলে উপজেলা সদরে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ সমাবেশে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী অংশ নেন।

 

বিক্ষোভের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা কলেজছাত্র মো. রুবেল চরকিং ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা রহিম মাঝির ছেলে। তিনি সুবর্ণচর উপজেলার সৈকত ডিগ্রি কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র। পড়ালেখার পাশাপাশি ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকলেও তার কোনো সাংগঠনিক পদ নেই বলে জানান স্থানীয়রা।

 

সমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করেন, গত মঙ্গলবার রাতে কোস্টগার্ডের একটি দল কৌশলে ফোন করে রুবেলকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে বলির পোল এলাকা থেকে আটক করে। এরপর পরদিন একটি আগ্নেয়াস্ত্র ‘দেখিয়ে’ তাকে থানায় সোপর্দ করে অস্ত্র আইনে মামলা দেওয়া হয়।

 

বক্তাদের ভাষায়, এটি কোনো আইনশৃঙ্খলা অভিযান নয়—বরং পরিকল্পিত ফাঁদ ও সাজানো নাটক।
স্থানীয়রা আরও অভিযোগ করেন, টাকার বিনিময়ে নিরপরাধ ছাত্রকে বলির পাঁঠা বানানো হয়েছে, যা রাষ্ট্রীয় বাহিনীর জন্য চরম লজ্জাজনক ও উদ্বেগজনক। তারা বলেন, “যদি একজন কলেজছাত্রকে এভাবে ফাঁসানো যায়, তাহলে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কোথায়?”

 

বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক ইসমাইল হোসেন ইলিয়াছ, সদস্য সচিব ফাহিম উদ্দিন, পৌরসভা যুবদলের আহ্বায়ক মমিন উল্যাহ রাসেল, সদস্য সচিব কাউছার মোস্তফা, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব সুমন তালুকদার, পৌরসভা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক খোন্দকার সোহেল, উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক রিয়াজ মাহমুদ, সদস্য সচিব আবদুল হালিমসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

 

বক্তারা কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে রুবেলকে মুক্তি না দিলে হাতিয়াজুড়ে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। তারা অবিলম্বে ঘটনার বিচার বিভাগীয় তদন্ত, দায়ী কোস্টগার্ড সদস্যদের শনাক্ত করে শাস্তি এবং মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানান।

 

এদিকে কোস্টগার্ডের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, অস্ত্র বিক্রির সময় রুবেলকে আটক করা হয়েছে। তবে স্থানীয়দের মতে, এই দাবি বিশ্বাসযোগ্য নয় এবং ঘটনার প্রকৃত সত্য আড়াল করতেই এমন বক্তব্য দেওয়া হচ্ছে।

 

ঘটনাকে ঘিরে পুরো হাতিয়া উপজেলায় তীব্র উত্তেজনা ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। যে কোনো সময় পরিস্থিতি আরও বিস্ফোরণমুখী হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সচেতন মহল।